মরুভূমিতে রক্ত ঝরলেও বাঁচবে গাছ! খেজড়ি রক্ষায় অনশনে পরিবেশপ্রেমী রাধেশ্যামের মা ও স্ত্রী

রাজস্থানের জীবনরেখা ‘খেজড়ি’ গাছ রক্ষার আন্দোলনে উত্তাল মরুরাজ্য। বিকানেরে চলা ‘খেজড়ি বাঁচাও মহাপড়াও’-এর সমর্থনে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রয়াত পরিবেশপ্রেমী রাধেশ্যাম বিশ্নোয়ের পরিবার। ধোলিয়া গ্রাম নিবাসী রাধেশ্যামের স্ত্রী নিরমা বিশ্নোই এবং মা রত্নি দেবী গত দুদিন ধরে নিজেদের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি একটাই—রাজস্থানের পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণভোমরা খেজড়ি গাছ রক্ষার জন্য সরকারকে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন মা ও স্ত্রী রাধেশ্যাম বিশ্নোই ছিলেন রাজস্থানের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের এক নির্ভীক যোদ্ধা। গত বছর হরিণ শিকারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আজ নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছেন তাঁর পরিবারের মহিলারা। মা রত্নি দেবী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বন্যপ্রাণী ও গাছের জন্য প্রাণ দিয়েছে। আজ সে নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁর অসম্পূর্ণ কাজ আমাদের শেষ করতে হবে।”
বিপন্ন মরু-সংস্কৃতি অনশনরত নিরমা বিশ্নোয়ের দাবি, খেজড়ি কেবল একটি গাছ নয়, এটি মরুভূমির ভারসাম্য বজায় রাখে। এই গাছ না থাকলে পশুপালন এবং গ্রামীণ জীবন চরম সংকটের মুখে পড়বে। রাজস্থানের মরু এলাকায় গডাউন (Great Indian Bustard) এবং হরিণ সংরক্ষণেও এই গাছের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবারের দাবি, সরকার যদি অবিলম্বে গাছ কাটা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়, তবে তাঁদের এই অনশন অনির্দিষ্টকাল চলবে।
গণ-আন্দোলনের রূপ বিকানেরে ইতিমধ্যে ৩৬৩ জন পরিবেশপ্রেমী এই আন্দোলনের সমর্থনে অনশন করছেন। বাজার বন্ধ রেখে এবং স্কুলেও ছুটি ঘোষণা করে স্থানীয় মানুষ সংহতি প্রকাশ করেছেন। রাজস্থান জুড়ে এই আন্দোলন এখন কেবল একটি অঞ্চলের নয়, বরং সমগ্র মরুভূমির ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।