দিল্লিতে শীত উধাও হতেই ফিরল বিষাক্ত বাতাস! ৩৪০ ছাড়াল AQI, আপনার এলাকা কি রেড জোনে?

ফেব্রুয়ারি পড়তেই বদলে গেল দিল্লির আবহাওয়া। কনকনে ঠান্ডার দাপট কাটিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ছে পারদ, কিন্তু স্বস্তির বদলে রাজধানীতে ফিরল বড় আতঙ্ক। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এনসিআর (NCR) এলাকায় বাতাসের মান পুনরায় ‘ভয়াবহ’ (Very Poor) শ্রেণিতে পৌঁছে গিয়েছে। আজ, ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির বহু এলাকায় বায়ু গুণমান সূচক (AQI) ৩০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

তাপমাত্রা বাড়লেও স্বস্তি নেই আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। তবে ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও, আগামী কয়েক দিনে তা আরও বাড়বে। ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকায় ধোঁয়াশা বা ‘স্মগ’-এর সৃষ্টি হচ্ছে।

বিষাক্ত বাতাসে ধুঁকছে রাজধানী দিল্লির প্রতিটি কোণ এখন দূষণে জেরবার। আনন্দ বিহারে AQI ৩২৭, বিবেক বিহারে ৩৪৩ এবং ওয়াজিরপুরে ৩১৯ রেকর্ড করা হয়েছে। একইভাবে অশোক বিহার (৩১৫) এবং বওয়ানা (৩০৭)-তেও বাতাসের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নয়ডা ও গাজিয়াবাদের পরিস্থিতিও তথৈবচ। গাজিয়াবাদের লোনী এলাকায় সূচক ৩৪২ এবং বসুন্ধরায় ৩২৯।

কেন এই পরিস্থিতি? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একদিকে তাপমাত্রা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে হাওয়ার গতিবেগ অত্যন্ত কম। এর ফলে বাতাসে থাকা ধূলিকণা ও দূষিত গ্যাসগুলি এলাকা ছেড়ে বেরোতে পারছে না। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের ঘরের বাইরে কম বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। শীত কমলেও এনসিআর-এর বাসিন্দাদের কাছে এখন নিশ্বাস নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।