সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল মমতার! ৩২ বছর আগেকার সেই দুর্ধর্ষ লড়াইয়ের স্মৃতিতে ভাসছে বালুরঘাট

৪ ফেব্রুয়ারি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টে যখন আবেদনকারী হিসেবে সওয়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই ৩২ বছর আগেকার এক ধূসর স্মৃতি ফিরে আসছে বালুরঘাট জেলা আদালতের অলিন্দে। সময়টা ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। রাজনীতির ময়দান থেকে সোজা আদালতের এজলাসে কালো গাউন পরে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন তরুণ তুর্কী সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। উত্তাল সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ছাত্র পার্থ সিংহের। সেই সময় পুলিশ নির্বিচারে বহু ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের গ্রেফতার করে আদালতে তোলে। খবর পেয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি পার্থর বাড়িতে ছুটে যান মমতা। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি হিলিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ধৃতদের তখনও জামিন হয়নি। আর দেরি করেননি তিনি; পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি নিজেই আইনজীবী হিসেবে বালুরঘাট জেলা আদালতে সওয়াল করতে পৌঁছে যান।
সেদিন মমতার সঙ্গী হয়েছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী সুভাষ চাকী ও মন্মথ ঘোষরা। সুভাষবাবু স্মৃতিচারণ করে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ছাত্রদের জামিনের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। বালুরঘাটের পাশাপাশি হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও একবার আইনজীবী হিসেবে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। আজ যখন তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির সামনে দাঁড়িয়ে সওয়াল করছেন, তখন ৩২ বছর আগের সেই তরুণী আইনজীবীর তেজস্বী রূপটাই যেন বারবার ভেসে উঠছে বালুরঘাটের প্রবীণ আইনজীবীদের চোখে।