সংসদে নজিরবিহীন রণক্ষেত্র! প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে বিক্ষোভ মহিলা সাংসদদের, আজ কি ভাষণ দেবেন মোদী?

ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল লোকসভা। বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কিন্তু বিরোধীদের প্রবল হই-হট্টগোল এবং রণংদেহি মেজাজের জেরে ভাষণ না দিয়েই কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। মূলত রাহুল গান্ধীকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিম্নকক্ষ। আজ, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ফের সংসদে জবাবি ভাষণ দিতে পারেন বলে খবর।

বুধবার সকাল থেকেই সংসদের আবহাওয়া ছিল তপ্ত। বিজেপি সাংসদদের একাংশের পক্ষ থেকে গান্ধী পরিবারকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কংগ্রেসের জ্যোতিমণি এবং বর্ষা গায়কোয়াড়ের মতো মহিলা সাংসদরা ওয়েলে নেমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আসনের দিকে এগিয়ে যান। বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি অভিযোগ করেন, মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন এবং স্পিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের আসনে ফেরেননি। এই পরিস্থিতিতে নিশিকান্ত দুবের মতো বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বিরোধীদের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।

বিকেল ৫টার পর ফের অধিবেশন শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ এবং স্লোগান চলতে থাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়। বিরোধীদের নিশানায় শুধু গান্ধী পরিবারের অপমান নয়, বরং চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার মতো কূটনৈতিক ইস্যুগুলোও ছিল। আজ মোদী যখন ফের ভাষণে দাঁড়াবেন, তখন বিরোধীরা কোন রণকৌশল নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী পাল্টা কী জবাব দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।