গাজিয়াবাদে ৩ বোনের আত্মহত্যায় শিউরে ওঠা তথ্য: ‘নিজেকে কোরিয়ান মানত ওরা’, ডায়েরিতে লেখা চরম বার্তা!

গাজিয়াবাদের ভারত সিটি সোসাইটিতে তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) এক সমান্তরাল কাল্পনিক জগতে বাস করত। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই তিন বোন কোরিয়ান ড্রামা এবং কে-পপ (K-Pop)-এর প্রতি এতটাই আসক্ত ছিল যে তারা নিজেদের ভারতীয় নয়, বরং কোরিয়ান নাগরিক মনে করত।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, তারা নিজেদের নাম বদলে কোরিয়ান নাম—মারিয়া, এলিজা ও সিন্ডি রেখেছিল। এমনকি বাড়িতেও তারা কোরিয়ান ভাষায় কথা বলত এবং নিজেদের রূপসজ্জাও বদলে ফেলেছিল কোরিয়ানদের মতো। তাদের একটি ইউটিউব চ্যানেল ছিল যেখানে তারা কোরিয়ান কন্টেন্ট আপলোড করত। কিছুদিন আগে তাদের বাবা চেতন এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের কথা জানতে পেরে ফোন কেড়ে নেন এবং অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেন। ডায়েরির পাতায় সেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তারা লিখেছে, “কোরিয়ানরাই আমাদের জীবন ছিল, তোমরা আমাদের জীবন কেড়ে নেওয়ার সাহস পেলে কী করে? এখন প্রমাণ দেখে নাও।”

তবে এই ঘটনার পেছনে কেবল ড্রামা আসক্তিই নয়, পারিবারিক ও আর্থিক সংকটও বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছে পুলিশ। চেতন ২ কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত ছিলেন এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে মেয়েরা গত ৩ বছর ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। চেতনের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল জটিল; তিনি দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন এবং তৃতীয় শ্যালিকাও তাঁদের সঙ্গেই থাকতেন। রহস্য দানা বেঁধেছে মৃতদেহের অবস্থান নিয়ে—৯ম তলা থেকে পড়েও দেহগুলি কেন দেওয়ালের এত কাছে ছিল, তা খতিয়ে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।