“লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চাই না, কাজ চাই!” মালদহে তৃণমূল ছেড়ে মিম-এ যোগ দিয়ে বিস্ফোরক মহিলারা

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙন। এবার খাস মালদহে ভাঙন ধরল তৃণমূলের অন্দরে। তবে এই ভাঙনের কারণ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একরাশ ক্ষোভ। “আমাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৫০০-১০০০ টাকা চাই না, আমাদের চাই কাজ এবং সুশিক্ষা।” এই দাবি তুলেই তৃণমূল ছেড়ে মিম-এ (AIMIM) যোগ দিলেন প্রায় পাঁচশো সংখ্যালঘু পরিবার। মালদহের রতুয়া বিধানসভার পরাণপুর অঞ্চলের মির্জাতপুর মাদ্রাসা পাড়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে।
বুধবার রতুয়া ১ ব্লক মিম সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে এক জনসভা আয়োজিত হয়। সেখানেই এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাঁদের পরিবারসহ ওলেসি সিদ্দিকির দলের পতাকা হাতে তুলে নেন। দলত্যাগী মহিলাদের অভিযোগ, রাজ্যে কাজের কোনো সংস্থান নেই। পেটের তাগিদে স্বামী ও সন্তানদের ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। সেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর আসছে, যা তাঁদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সাবেরা বিবি নামে এক মহিলা বলেন, “আমার ছেলে-মেয়েরা সব বাইরে খাটছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সামান্য টাকায় সংসার চলে না। আমরা চাই সরকার কাজের ব্যবস্থা করুক, যাতে আমাদের ঘরের মানুষগুলোকে বাইরে বিপদের মুখে পড়তে না হয়।”
ক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও। দলত্যাগীদের দাবি, রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার হাল অত্যন্ত খারাপ। ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে স্বনির্ভর করার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। তাই কেবল অনুদান নয়, স্থায়ী কর্মসংস্থানই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করছে মিম। এর আগে রতুয়া, মানিকচক ও মালতীপুরেও সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ ঘাসফুল ছেড়ে পতঙ্গ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনের মুখে এই দলবদল তৃণমূলের দুশ্চিন্তা যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।