শীত কি তবে বিদায় নিল? আবহাওয়ার মেজাজ বদলে আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ!

ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে বাংলার আবহাওয়া এখন এক খামখেয়ালি মোড়ে দাঁড়িয়ে। সকালে শিরশিরানি ঠান্ডা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই লুকোচুরির খেলায় সবার মনে একটাই প্রশ্ন—শীত কি তবে সত্যিই বিদায় নিচ্ছে? এই পরিস্থিতিতে বিরাট আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুর ও দমদমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রির মধ্যে। ডায়মন্ড হারবারে তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেশি ছিল, যা ছুঁয়েছিল ২৯.৩ ডিগ্রি। তবে আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এখনই শীতকে বিদায় জানানোর সময় আসেনি। আগামী তিন দিনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। যদিও রাতের তাপমাত্রায় খুব একটা বড়সড় রদবদল হবে না।
এই হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবকে। এই ঝঞ্ঝার কারণে রাজ্যে জলীয় বাষ্প ও মেঘ ঢুকছে। তবে খুব শীঘ্রই এই মেঘ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আকাশ পরিষ্কার হলেই ফের রাজ্যে দাপট বাড়াবে উত্তুরে হাওয়া। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে হঠাৎ করেই পারদ কিছুটা নামবে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের মতে, সেই কনকনে বা হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে। বৃহস্পতিবার এই তিন জেলায় ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে, যার জেরে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। এই জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে হাওয়া অফিস। তাই এখনই গরম জামাকাপড় আলমারিতে তুলে না রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।