মহার্ঘভাতা নিয়ে আজই কি চূড়ান্ত ফয়সালা? সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর এজলাসের রায়ের দিকে তাকিয়ে নবান্ন!

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ কয়েক বছরের লড়াই আজ এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) মামলার বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা হতে চলেছে আজ, বৃহস্পতিবার। নয়া দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর এজলাসে সকাল ১০:৩০ মিনিটে বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ এই মামলার রায় প্রদান করবে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ে মোট ২৬ বার শুনানি হয়েছে, যার শেষটি হয়েছিল গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।

মামলার ইতিহাস ও আইনি মারপ্যাঁচ: ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ টন্ডন ও বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি (SLP) দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী মোট বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ যেন ৬ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য মিটিয়ে দেয়। কিন্তু রাজ্য সরকার পদ্ধতিতে সমস্যার কথা জানিয়ে বারবার সময় চেয়েছে।

আজকের রায়ে নজর কেন? রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি, বকেয়া ডিএ তাঁদের আইনি অধিকার। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক আকাশছোঁয়া। আজ যদি সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মেটানোর পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয়, তবে তা হবে নবান্নের জন্য বড় ধাক্কা এবং কর্মীদের জন্য ঐতিহাসিক জয়। ২৬ বারের শুনানিতে উভয় পক্ষই তাঁদের জোরদার সওয়াল পেশ করেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত রেখেছিল আদালত।

আজ সকাল ১০:৩০-এ ১১ নম্বর এজলাসে যখন রায় পড়া শুরু হবে, তখন নবান্ন থেকে শুরু করে মহাকরণ— সর্বত্রই কি আনন্দের বন্যা বইবে, না কি আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।