খিদিরপুরে আক্রান্ত হুমায়ুন কবীর! গাড়ি আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কাঠগড়ায় ফিরহাদ অনুগামীরা

কলকাতার খিদিরপুরে চরম হেনস্থার শিকার হলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার কলকাতা পুরসভার ৭৭ ও ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে তাঁর গাড়ি আটকে একদল যুবক বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। হুমায়ুন কবীরের দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং মারধরের চেষ্টাও করা হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের অনুগামীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কী ঘটেছিল খিদিরপুরে? হুমায়ুন কবীরের বয়ান অনুযায়ী, তিনি যখন বন্দর এলাকায় নিজের গাড়িতে উঠছিলেন, তখনই ২০-২২ জন যুবক তাঁকে ঘিরে ধরেন। হুমায়ুন বলেন, “ওরা সবাই ববি হাকিমের গুন্ডা। খিদিরপুরের এই এলাকায় যারা ববি হাকিমের নাম দিয়ে ‘মিনি পাকিস্তান’-এর স্লোগান দেয়, তারাই আজ আমার ওপর চড়াও হয়েছে।” উল্লেখ্য, বাবরি মসজিদের শিলান্যাস এবং তৃণমূল বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টায় হুমায়ুন কবীর বর্তমানে শাসকের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: হুমায়ুন কবীরের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতা শাহবাজ সমীর পাল্টা তোপ দেগেছেন। তাঁর বক্তব্য, “হেঁটে হেঁটে নিজেকে মুসলিম নেতা প্রমাণ করার এই রাজনীতি বাংলায় চলবে না। কেন আপনি মন্দিরে গিয়ে হিন্দু নেতা বা মসজিদে গিয়ে মুসলিম নেতা হওয়ার লড়াই করবেন? এই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ আমরা করতে দেব না।” অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিমকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।
শুভেন্দুর পরামর্শ: হুমায়ুন কবীরের ওপর এই হামলার ঘটনায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি হুমায়ুনকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আপনি এখনও একজন নির্বাচিত বিধায়ক। পুলিশের কাছে না গিয়ে প্রয়োজনে নবান্ন বা বিধানসভার ভেতরে ধরনায় বসুন।” উল্লেখ্য, এর আগেও ব্রিগেডের সভা পরিদর্শনে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হুমায়ুনের থাবা বসানোর চেষ্টাই বারবার এই সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।