মেট্রোর ভোলবদল! ব্লু লাইনে এবার ১৮ কোটি লিটার জল বাঁচাবে নবান্ন, আসছে জাপানি প্রযুক্তি

কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইন বা উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে নোয়াপাড়া কারশেডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্লু লাইনের ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (TVS) এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ECS)-এর আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হলো। মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী সুভ্রাংশু এস. মিশ্রর উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের সূচনা যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এক নতুন দিশা দেখাল।
১৮ কোটি লিটার জল বাঁচাবে মেট্রো: ৫8৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প সম্পন্ন হতে সময় লাগবে ৪ বছর। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়। বর্তমানের ‘ওয়াটার কুল চিলার’-এর পরিবর্তে বসানো হবে অত্যাধুনিক ‘এয়ার কুল চিলার’। এর ফলে মেট্রো স্টেশনগুলিকে ঠান্ডা রাখতে বছরে যে ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জল অপচয় হতো, তা পুরোপুরি বন্ধ হবে। স্টেশনের বাইরে পরিচিত কুলিং টাওয়ারগুলোও আর দেখা যাবে না।
৪১ বছরের পুরনো ফ্যান বিদায়: মেট্রোর টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেমেও আসছে আমূল বদল। আগে নন-এসি রেক চলার কারণে টানেল ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এখন সব রেক এসি হওয়ায় ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছিল। ৪১ বছরের পুরনো ১১০ কিলোওয়াটের ফ্যানগুলো বদলে এবার বসবে শক্তিশালী ‘অ্যাক্সিয়াল ফ্যান’। এই পাখাগুলো ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও ২ ঘণ্টা একটানা কাজ করতে সক্ষম। টানেলে ধোঁয়া বা আগুনের সংকেত পেলেই এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে।
সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষা: একটি জাপানি কোম্পানির ভারতীয় শাখার তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলবে, যাদের সিঙ্গাপুর মেট্রোর ১০০টিরও বেশি স্টেশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই আধুনিকীকরণের ফলে বছরে ২১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে এবং প্রায় ২৩,০০০ মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে। যাত্রী সুরক্ষা ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই কলকাতা মেট্রো এক বিশাল লাফ দিতে চলেছে।