দামোদরের বালিতে লুকিয়ে ছিল মৃত্যুদূত! বাঁকুড়ায় উদ্ধার ৩টি বিশালাকার মর্টার শেল, হুলুস্থুল কাণ্ড!

বাঁকুড়ার সোনামুখীতে গত কয়েকদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার অবসান হলো বুধবার। সোমবার দামোদর নদের চর থেকে বালি তোলার সময় হঠাৎই উঠে আসে তিনটি বিশালাকার মর্টার শেল। দানবীয় চেহারার এই বিস্ফোরক ঠাসা শেলগুলো দেখতেই এলাকায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাস্ত্র বলে দাবি করতে থাকেন। বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি এলাকাটি ঘিরে ফেলে সোনামুখী থানার পুলিশ ও রাজ্যের বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড।

বালির নিচে লুকানো ছিল বিপদ সোনামুখীর দামোদর নদের গর্ভ থেকে বালি উত্তোলনের সময় এই ৩টি সিলিন্ডার আকৃতির মর্টার শেল উদ্ধার হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ পানাগড় সেনা ছাউনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা এসে পরীক্ষা করার আগে পর্যন্ত বিপদ এড়াতে মর্টারগুলোকে নদীর চরে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করেন যে এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক।

সেনাবাহিনীর মেগা অপারেশন বুধবার দুপুরে পানাগড় থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল সোনামুখীতে পৌঁছায়। জনবসতি থেকে নিরাপদ দূরত্বে নদীর চরে গভীর গর্ত খুঁড়ে ওই মর্টার শেলগুলোকে রাখা হয়। এরপর ডিনামাইটের সাহায্যে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠলেও সেনার পেশাদারিত্বে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

অবশেষে আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সোনামুখীর মানুষ। তবে দামোদরের চরে আরও কোনো বিস্ফোরক লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।