লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় চমক? ২০২৬-এর আগে মমতার মাস্টারস্ট্রোক না কি তারিখ বদলের জল্পনা?

পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ভোটারদের হৃদস্পন্দন এখন একটিই প্রকল্পকে ঘিরে— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার জীবনরেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা তত তুঙ্গে উঠছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট পেশের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— এবার কি সত্যিই বাড়বে ভাতার অঙ্ক?

বাজেটে কি বড় চমক থাকছে? বিগত বছরে রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ একধাক্কায় ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা (সাধারণ শ্রেণি) এবং ১২০০ টাকা (তপশিলি জাতি ও উপজাতি) করেছিল। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে এই অঙ্ক ১৫০০ বা ২০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যদিও সাম্প্রতিক বাজেটে সরাসরি কোনো অঙ্ক বৃদ্ধির ঘোষণা না আসায় কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক কোনো জনসভা বা বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বড়সড় কোনো ঘোষণা করে চমক দিতে পারেন।

টাকা ঢোকার তারিখ কি বদলে যাচ্ছে? ভাতার অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে— টাকা প্রদানের সময়সীমা। শোনা যাচ্ছে, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য বা বাজেটের নতুন নীতি অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার নির্দিষ্ট তারিখে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত উপভোক্তাদের অনলাইন স্ট্যাটাসে “Payment Under Process” দেখাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্র মারফত খবর, চলতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যেই সিংহভাগ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৬-এর দিকে নজর নবান্নর সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে এই নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেন্দ্রের বাজেট বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্য সরকার তার পরবর্তী পদক্ষেপ সাজাতে পারে। বার্ধক্য ভাতা থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— প্রতিটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেই বড়সড় রদবদল বা বরাদ্দ বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত নবান্নের ঝুলি থেকে সাধারণ মহিলাদের জন্য আর কী কী সুখবর বের হয়।