আইনজীবী নন, তবুও শীর্ষ আদালতে সওয়াল করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বেনজির ঘটনার অপেক্ষায় দেশ

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক অত্যন্ত বিরল এবং বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে অনেকদিন ধরেই এই নিয়ে গুঞ্জন ছিল, তবে এবার সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছেন তিনি। ফলে শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন লড়াকু নাগরিক হিসেবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন মমতা।

সাধারণত শীর্ষ আদালতে সওয়াল করার জন্য তালিকাভুক্ত আইনজীবী হওয়া বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট প্যানেলে নাম না থাকলে কেউ আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু আইনের একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন তিনি নিজেই নিজের মামলা লড়বেন, তবে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি ‘ইন পারসন’ বা ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অধিকার প্রয়োগ করেই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এজলাসে হাজির হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে আইনি মহলে। যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন আইন স্নাতক, তাই আইনি মারপ্যাঁচ তাঁর অজানা নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি নিজে সওয়াল করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে এক বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন। বিশেষ করে যে মামলার প্রেক্ষিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, সেখানে সরাসরি সওয়াল করে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।

আগামী শুনানির দিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এজলাসে কী ঘটে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। একজন আসীন মুখ্যমন্ত্রী কি পারবেন আদালতের কঠোর প্রোটোকল মেনে নিজের যুক্তি সাজাতে? অন্যদিকে, বিরোধীরাও এই বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর মমতার এই সম্ভাব্য ‘আইনি অভিযান’ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত এজলাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সওয়াল করেন, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।