‘তাহলে সুপার এমার্জেন্সি ঘোষণা করে দিন!’ দিল্লি থেকে মোদী সরকারকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মমতার!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই যুদ্ধের উত্তাপ এবার কলকাতা ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ল খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ডামাডোলের প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “যদি আপনাদের ইচ্ছেমতোই সব চলে, তবে দেশে ‘সুপার এমার্জেন্সি’ বা মহাজরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দিন!”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “গত ছয় মাস ধরে রাজ্যের প্রশাসন কাজ করতে পারছে না। সরকারি কর্মী থেকে শিক্ষক— সবাইকেই এসআইআর-এর কাজে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। এটা আসলে বাংলাকে টার্গেট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।” তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকাগুলো থেকে বেছে বেছে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
দিল্লিতে দাঁড়িয়ে মমতার এই কড়া আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “৩৩ শতাংশ মুসলিম, ২৩ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ৬ শতাংশ উপজাতি মানুষকে কি আমরা রাজ্য থেকে বের করে দেব? লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে এই হেনস্থা কেন?” মমতা স্পষ্ট জানান, গণতান্ত্রিকভাবে লড়তে না পেরেই বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপিও। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েই দিল্লিতে গিয়ে নাটক করছেন। তবে ভোটের মুখে ‘সুপার এমার্জেন্সি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে মমতা যে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের সুর সপ্তমে বাঁধলেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের। দিল্লিতে মমতার এই আগ্রাসী মনোভাব ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।