শীতের রাতে নরক গুলজার! ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডে পুতিনের ‘মাদার অফ অল অ্যাটাক’, অন্ধকারে কোটি কোটি মানুষ!

যুদ্ধ নয়, যেন এক ধ্বংসলীলা! গোটা বিশ্ব যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই ইউক্রেনের ওপর এযাবৎকালের বৃহত্তম আকাশপথে হামলা চালাল মস্কো। রাশিয়ার ৪৫০টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং ৭০টি মিসাইল একযোগে আছড়ে পড়ল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর। হাড়কাঁপানো শীতের মাঝে গোটা দেশকে কার্যত অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

মাইনাস ২০ ডিগ্রিতে জীবনযুদ্ধ: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শীতের চরম সময়টিকে বেছে নিয়েছে। কিয়েভে এখন তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবস্থায় পাওয়ার গ্রিড ধ্বংস করার অর্থ হলো হিটিং ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া। বিদ্যুৎ ও জলহীন অবস্থায় সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে তাদের মনোবল ভাঙাই রাশিয়ার মূল কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

ধ্বংসের খতিয়ান: ইউক্রেনের বৃহত্তম বিদ্যুৎ সংস্থা DTEK জানিয়েছে, এটি এ বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত। হামলায় থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সাবস্টেশনগুলো চুরমার হয়ে গেছে। শুধু কিয়েভেই ১,১৭০টি আবাসন কমপ্লেক্স এখন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। একটি কিন্ডারগার্টেন এবং ন্যাশনাল ওয়ার্ল্ড ওয়ার-II মিউজিয়ামও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। হামলায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং খারকিভ ও ওডেসাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শান্তি আলোচনার আগে শক্তির আস্ফালন? তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে যখন ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে কিয়েভ সফরে রয়েছেন। পাশাপাশি আবু ধাবিতে আমেরিকার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরুর ঠিক আগের দিন এই হামলা পুতিনের এক বড় রাজনৈতিক বার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আলোচনার টেবিলে বসার আগে ইউক্রেনকে কোণঠাসা করে নিজের শর্ত মানাতে চাইছে ক্রেমলিন। ন্যাটো অবশ্য সাফ জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের পাশেই আছে, কিন্তু অন্ধকারের সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে কিয়েভ কতদিন টিকবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।