দাঁতের ফাঁকে লুকিয়ে অকাল মৃত্যু? ব্রাশ করার পরেও থেকে যাচ্ছে মারাত্মক জীবাণু, আজই সাবধান হোন!

শরীর সুস্থ রাখতে আমরা অনেক কিছুই করি, কিন্তু অবহেলার তালিকায় সবার উপরে থাকে দাঁত ও মাড়ি। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে হৃদযন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে। কেবল সকালে একবার দাঁত মেজেই ভাবছেন কেল্লাফতে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুল ধারণাই ডেকে আনছে মহাবিপদ। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা অদৃশ্য খাবারের কণা থেকে তৈরি হওয়া জীবাণু মাড়ির গভীরে সংক্রমণ ঘটায়, যা পরবর্তীকালে হাড়ের ক্ষয় পর্যন্ত করতে পারে।

কেন শুধু ব্রাশ করা যথেষ্ট নয়? আন্তর্জাতিক দন্ত স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, ব্রাশ দাঁতের উপরিভাগ পরিষ্কার করলেও দাঁতের খাঁজে পৌঁছাতে পারে না। সেখানে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া মাড়ি ফুলিয়ে দেয় এবং রক্ত পড়ার সমস্যা তৈরি করে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ব্রাশ করার পাশাপাশি প্রতিদিন দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার অভ্যাস বা ‘ফ্লসিং’ করা জরুরি। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যায়।

মিষ্টিই কি আসল শত্রু? মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর মুখের ভেতর অম্লভাব বা অ্যাসিড তৈরি হয়। এই অ্যাসিড দাঁতের সুরক্ষাকবচ ‘এনামেল’ নষ্ট করে দেয়। ফলস্বরূপ দাঁতে ক্যাভিটি বা গর্ত এবং প্রচণ্ড শিরশিরানি শুরু হয়। গবেষকদের দাবি, প্রতিদিন মিষ্টি খাওয়ার বদলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন বেছে নেওয়া এবং খাওয়ার পরপরই জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা দাঁতকে দীর্ঘজীবী করে।

ব্যথা নেই মানেই কি দাঁত সুস্থ? সবচেয়ে বড় ভুল হলো দাঁতে ব্যথা না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির রোগ নিঃশব্দে ছড়ায়। যখন ব্যথা শুরু হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিলে বড় কোনো অস্ত্রোপচার বা দাঁত তুলে ফেলার মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। সুস্থ থাকতে আজই বদলান আপনার এই সামান্য অভ্যাসগুলি।