আসানসোলে ইডির ঝোড়ো হানা: ব্যবসায়ী বনসালের গোডাউন থেকে বেরোল ৩টি রহস্যময় বস্তা! ভেতরে কি লুকানো কোটি কোটি টাকা?

কয়লা এবং বালি পাচার মামলার তদন্তে এবার চরম নাটকীয় মোড়। মঙ্গলবার সাতসকাল থেকে কলকাতা, দুর্গাপুর এবং আসানসোলের একাধিক ঠিকানায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়ল জামুরিয়ার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রাজেশ বনসালের বাড়িতে। ইডি আধিকারিকরা যখন রাজেশের বাড়িতে ঢোকেন, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দুই ব্যাঙ্ক কর্মী এবং টাকা গোনার মেশিন। সূত্রের খবর, দীর্ঘ তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত রাজেশের বাড়ি থেকে নগদ ৬৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু আসল রহস্য দানা বেঁধেছে একটি জরাজীর্ণ গোডাউনকে কেন্দ্র করে।
রহস্যময় ৩টি চালের বস্তা: বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ জামুরিয়ার ওই নোংরা ও জরাজীর্ণ গোডাউন থেকে ইডি আধিকারিকদের তিনটি বড় চালের বস্তা হাতে বের হতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বস্তাগুলি বেশ ভারী ছিল। সেখানে কি নগদ কোটি কোটি টাকা লুকানো ছিল, নাকি অত্যন্ত গোপনীয় কোনো নথি—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ওই গোডাউনটি কয়লা পাচারের কালো টাকা লুকানোর সেফ হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
কয়লা পাচারের ‘মিডলম্যান’ বনসাল পরিবার: তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি যখন আইনি বা বেআইনিভাবে কয়লা কিনত, তারা সরাসরি টাকা লেনদেন না করে রাজেশ বনসালের ট্রেডিং সংস্থাকে ‘মিডিয়াটার’ হিসেবে ব্যবহার করত। অভিযোগ, বনসাল পরিবার কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করতে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়া’ দিত। হাওলা যোগের মাধ্যমে এই টাকা কোথায় কোথায় যেত, তা জানতে রাজেশের দুই ছেলে সুমিত ও অমিত বনসালের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সাঁড়াশি অভিযান: এদিন ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ ইডির একটি বিশাল দল জামুরিয়ায় পৌঁছায়। রাজেশের বাড়ি ও হার্ডওয়্যারের দোকান ছাড়াও তল্লাশি চলে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতেও। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি ও ডিজিটাল তথ্য। কয়লা কেলেঙ্কারির শিকড় কতদূর বিস্তৃত, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে ইডি।