‘২৪ বছর পর কেন এই তৎপরতা?’ দিল্লিতে কালো চাদরে মোড়া মমতার রণংদেহী মূর্তি, নিশানায় কমিশন!

নয়াদিল্লির বঙ্গভবন চত্বরে আজ এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজনীতি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে যখন রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত চরমে, তখন খোদ রাজধানীতে দাঁড়িয়ে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বঙ্গভবনের বাইরে কালো চাদর গায়ে জড়িয়ে মৌন প্রতিবাদের ঢঙে উপস্থিত হয়েও মেজাজে ছিলেন সেই চেনা অগ্নিকন্যা। তাঁর পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বেশ কিছু সাধারণ মানুষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “২০০২ সালে শেষবার বাংলায় এসআইআর হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ২৪ বছর কোনও হেলদোল ছিল না। হঠাৎ নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এই হুড়োহুড়ি?” তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৬ বার চিঠি লিখেছেন, তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বারবার কমিশনে গিয়েছে, কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। উল্টে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল প্রয়োগ করে একতরফাভাবে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “অসমে তো এসআইআর হচ্ছে না! সেখানে কি ডবল ইঞ্জিন সরকার বলে ছাড়? শুধু বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে কেন?” তাঁর অভিযোগ, বিএলও (BLO)-দের পরিবারদের ওপর লাগাতার মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ভয়ের পরিবেশে কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, কেউবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এদিন বঙ্গভবনে উপস্থিত আক্রান্তদের দেখিয়ে মমতা বলেন, “দিল্লির সাংবাদিকরা দেখুন, বাংলায় কী চলছে। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে তাঁদের অসম্মান করা হয়েছে। কালো পোশাকে এই প্রতিবাদ স্রেফ একটি দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই বলে তিনি দাবি করেন। বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেড এবং কড়া নিরাপত্তাকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, যত বাধাই আসুক, বাংলার মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেবেন না তিনি।