‘বাংলায় সুপার ইমার্জেন্সি চলছে!’ দিল্লিতে মোদী-কমিশনকে তুলোধোনা মমতার, বিপাকে জন পরিষেবা!

দিল্লির চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন থেকে কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গ এক ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন রাজ্যের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ স্তব্ধ করে দিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী, আধিকারিক এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন পরিষেবায়। বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের এই কাজে ব্যবহার করায় পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বড়সড় সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র বাংলাকেই এভাবে নিশানা করা হচ্ছে? তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই, কিন্তু বাংলাকে প্রশাসনিকভাবে পঙ্গু করার ছক কষা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “আমি গত ছয় মাসে একাধিক চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কমিশন কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।” সোমবার কমিশনের বৈঠক থেকে তাঁর ক্ষুব্ধ হয়ে বেরিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কমিশন যেভাবে ‘উদ্ধত’ আচরণ করছে তা নজিরবিহীন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দিল্লিতেও তাঁকে এবং তাঁর দলের প্রতিনিধিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি বঙ্গভবনের বাইরে ছোট শিশুদের জন্য দুধ আনতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আইনি ও রাজনৈতিক— উভয় পথেই এই লড়াই লড়বেন। তাঁর কথায়, “আমরা আইন মানি বলে রাজপথে নেমে তান্ডব করছি না, কিন্তু বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।” এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন যে, দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে দাঁড়িয়ে তিনি বাংলার হয়ে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।