নির্বাচন কমিশনারকে হঠাতে রাহুলের প্রস্তাবে সিলমোহর মমতার! দিল্লিতে বসেই ‘অনাস্থা’র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

জাতীয় রাজনীতিতে ফের একজোট তৃণমূল ও কংগ্রেস। এবার লক্ষ্য, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর নিউ বঙ্গভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এক বিশেষ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে মমতা স্পষ্ট করে দিলেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে তিনি এক পায়ে খাড়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, রাহুল গান্ধী প্রস্তাব দিয়েছেন যে আগামীতে ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে বর্তমান সিইসি-র (CEC) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন আইন আনা হবে। এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। শুধু তাই নয়, তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যা আমাদের হাতে থাকত, তবে আমরা এখনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিতাম।”
এদিন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি নিয়ে ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত আবেগঘনভাবে মৃত বিএলও-দের (BLO) প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মমতার অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক বিএলও অত্যধিক চাপে প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি এক বিএলও আত্মহত্যার আগে কমিশনের নামে এফআইআর করে গিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁর প্রশ্ন, “বিএলও-দের পরিবারকে কেন কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না? বিএলও-রা কি মানুষ নন?”
ভোটার তালিকায় কোনওরকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চূড়ান্ত তালিকায় গোলমাল ধরা পড়লে তিনি আইনি ও রাজনৈতিক— সবরকম ব্যবস্থা নেবেন। গতকালই তিনি নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক বয়কট করেছিলেন, আর আজ দিল্লিতে রাহুলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাঁর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।