“ভারত ছাড়ুন, নয়তো নিয়ম মানুন!” মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপকে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন ধমক

“আপনারা এ দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন না।” হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবং মেটা-র (Meta) তথ্য শেয়ারিং পলিসি নিয়ে এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতবাসীর ব্যক্তিগত তথ্য কোনওভাবেই ব্যবসার কাজে বা বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এমনকি, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যদি মেটা ভারতের সংবিধান এবং গোপনীয়তার আইন মেনে চলতে না পারে, তবে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনারা বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যারা আপনাদের জটিল শর্তাবলি বোঝেন না, তাঁদের তথ্যের অপব্যবহার করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ একটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, ডেটা সংগ্রহ করে বিক্রি করার জায়গা নয়।” জাস্টিস বাগচীও এই প্রসঙ্গে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

আদালত মেটাকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে কোম্পানিকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তারা কোনও তথ্য মেটা-র অন্য প্ল্যাটফর্মের সাথে শেয়ার করবে না। যদিও মেটার আইনজীবী জানিয়েছেন যে তারা ইতিমধ্যেই ২১৩ কোটি টাকার জরিমানা মিটিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জরিমানার মাধ্যমে প্রাইভেসির অধিকার কেনা যায় না। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।