ছেঁড়া জুতো থেকে স্বপ্নের ট্রফি! রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অলিম্পিক গোল, কে এই বঙ্গতনয় যাকে নিয়ে মাতোয়ারা ফুটবল বিশ্ব?

ময়দান চিরকালই তারকার উত্থান আর পতনের সাক্ষী। কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন আসে যা রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর হয়। কল্যাণী স্টেডিয়ামে বেঙ্গল সুপার লিগের (BSL) মেগা ফাইনালে ঠিক তেমনটাই ঘটল। ম্যাচের ফলাফল তখন ২-২। জেএইচআর রয়্যাল সিটি এবং হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের মধ্যে লড়াই তখন চরমে। আর ঠিক সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে এক বিষাক্ত বাঁকানো কর্নার কিক যা সরাসরি জালে জড়িয়ে গেল— ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অলিম্পিক গোল’। এই এক গোলেই এখন ময়দানের নতুন মহানায়ক ২৩ বছরের যুবক কৌস্তভ দত্ত।
হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের কোচ হিসেবে এই টুর্নামেন্টেই অভিষেক হয়েছে সবুজ তোতা হোসে রামিরেজ ব্যারেটোর। নব্বই মিনিট পর্যন্ত খেলা অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। একদম শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে কৌস্তভের সেই কিক গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে যখন জালে ঢুকল, গ্যালারি তখন চিৎকার করছে— ‘ব্যারেটোর ছাত্র গোল করেছে!’ কৌস্তভের এই জাদুকরী গোলেই প্রথম মরসুমেই খেতাবের স্বাদ পেলেন ব্যারেটো ও তাঁর দল।
শূন্য থেকে শিখরে ফেরার লড়াই: নিউটাউনের বাসিন্দা কৌস্তভের উঠে আসার পথটা সহজ ছিল না। বাবা পাম্প অপারেটরের চাকরি করেন। রিলায়েন্সের যুব দল থেকে শুরু করে হায়দ্রাবাদ এফসির যুব দল— প্রতিভা চিনতে ভুল করেনি কেউ। কালীঘাট এমএস-এ ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে ডাক পেয়েছিলেন লাল-হলুদ ব্রিগেড ইস্টবেঙ্গলে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে চোটের কবলে পড়ে ফুটবল জীবন প্রায় শেষ হতে বসেছিল। সেই অন্ধকার দিন কাটিয়ে বেঙ্গল সুপার লিগে হাওড়া-হুগলির হয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৪টি গোল করে নিজের জাত চেনালেন কৌস্তভ।
বাংলার ফুটবলে নতুন আশা: আইএসএল নিয়ে ডামাডোল আর ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে ৮টি দলের এই বেঙ্গল সুপার লিগ ছিল আশার আলো। হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের জয় এবং সভাপতি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য— সব মিলিয়ে এই জয় এক বড় বার্তা। ফাইনালে কৌস্তভের সেই ‘অবাক গোল’ দেখার পর এখন তাঁর দরজায় কড়া নাড়ছে আই লিগের বড় বড় ক্লাবগুলো। ময়দান এখন শুধু অপেক্ষায়, ব্যারেটোর এই মানসপুত্র কত তাড়াতাড়ি জাতীয় মঞ্চে আলো ছড়ান।