“ডুবন্ত জাহাজে কেন আমাদের তুললেন?” বেঙ্গালুরুর যুবকের আর্তনাদ ভাইরাল, কাঁপছে স্টার্টআপ দুনিয়া!

ভারতের আইটি হাব হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরু থেকে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা কর্পোরেট জগতের অন্ধকার দিকটি আবারও সামনে এনেছে। জীবন নামে এক যুবক তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, ভারতে চাকরির নিরাপত্তা বা ‘জব সিকিউরিটি’ এখন কেবল একটি অলীক কল্পনা বা মিথ। স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর অপেশাদারিত্ব এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

১০ মাস ধরে ছাঁটাইয়ের নীল নকশা: জীবনের অভিযোগ, তিনি যে সংস্থায় কাজ করতেন, সেখানে তাঁর তিন মাসের প্রবেশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোম্পানির মালিক নিজেই স্বীকার করেছেন যে জীবনের টিমটিকে ছাঁটাই করার পরিকল্পনা গত ১০ মাস ধরে চলছিল। জীবন প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি আগে থেকেই পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা ছিল, তবে কেন নতুন কর্মী নিয়োগ করা হলো? কেন আমাদের কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমকে নিংড়ে নেওয়া হলো?”

সপ্তাহে ৭ দিন কাজ, বিনিময়ে ছাঁটাই: ভিডিওতে জীবন বলেন, “আমি সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১০ ঘণ্টা করে কাজ করেছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। কিন্তু বিনিময়ে যা পেলাম তা কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নৈতিক দেউলিয়াত্ব।” তিনি কোম্পানিগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তারা মানুষকে স্রেফ ‘ব্যালেন্স শিটের সম্পদ’ হিসেবে গণ্য করে। দেড় মাসের ছুটির প্যাকেজ ধরিয়ে দিয়ে কোম্পানি তাঁকে কৃতজ্ঞ থাকতে বলেছিল, কিন্তু এই মানসিক চাপ এবং ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়: জীবনের এই ভিডিওটি বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের টাইমলাইনে ঘুরছে। তিনি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “আপনারা হয়তো আপনাদের ব্যবসায়িক সংখ্যায় (Numbers) সফল হয়েছেন, কিন্তু মানুষ হিসেবে আপনারা ব্যর্থ।” নেটিজেনরা জীবনের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এবং স্টার্টআপ কালচারের এই ‘Hire and Fire’ নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ভারতের চাকরির বাজারে সাধারণ কর্মীদের সুরক্ষা আজ এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।