কয়লা পাচার কাণ্ডে ইডির হানা! ওসির বাড়ি-সহ রাজ্যের ১০ জায়গায় তল্লাশি, পাচারের টাকায় সম্পত্তি কেনাই কি লক্ষ্য?

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ফের কয়লা পাচার ও অবৈধ পরিবহন সংক্রান্ত মামলায় জোরদার তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রাজ্যের মোট ১০টি স্থানে একযোগে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য হলো পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস ও গতিপথ খুঁজে বের করা।

তদন্তের জালে পুলিশ আধিকারিক ও ব্যবসায়ীরা: মঙ্গলবারের এই অভিযানে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো বুদবুদ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (OC) মনোরঞ্জন মণ্ডলের প্রাঙ্গণে তল্লাশি। এছাড়াও ইডির নজরে রয়েছেন কিরণ খান, শেখ আখতার, প্রবীর দত্ত এবং মির্জা হেসামুদ্দিন বেগের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাঁদের বাড়ি ও সম্পত্তির বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, ইসিএল (ECL)-এর খনি থেকে অবৈধভাবে তোলা কয়লা জাল নথির মাধ্যমে পাচারে এঁরা কোনোভাবে সাহায্য করেছেন।

রাজস্বের বিপুল ক্ষতি: দীর্ঘদিন ধরে আসানসোল ও সংলগ্ন খনি অঞ্চল থেকে কয়লা চুরির বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে। সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরেই ইডি এই অর্থ পাচার বা ‘মানি লন্ডারিং’ মামলার তদন্তে নেমেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অবৈধ উপায়ে অর্জিত এই অর্থ বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে এবং পাচারের টাকায় কেনা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বেনামি সম্পত্তি।

তল্লাশির উদ্দেশ্য: মঙ্গলবারের এই মেগা তল্লাশির মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করা। সরকারি কর্মচারী ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অশুভ যোগসাজশ তৈরি হয়েছিল, তার প্রমাণ জোগাড় করতেই এই তৎপরতা। এর আগে আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলার টানাপোড়েনের মাঝেই ইডির এই নতুন অভিযানে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।