বারুইপুর পোস্ট অফিসে চক্ষু চড়কগাছ! শাড়ির ভাঁজে হাজার হাজার মাছরাঙার পালক, চিনে পাচারের ছক বানচাল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বন্যপ্রাণ পাচারের এক আন্তর্জাতিক ছক ভেস্তে দিল পুলিশ ও ডাক বিভাগের কর্মীরা। শাড়ির ভাঁজে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল হাজার হাজার মাছরাঙার পালক। সোমবার বারুইপুর পোস্ট অফিসের কর্মীদের তৎপরতায় এই পাচারকারীকে হাতে-নাতে ধরা হয়। ধৃত মিনাতুল্লাহ নেগাবন সুন্দরবনের ঢোলাহাট থানার উত্তরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সন্দেহের সূত্রপাত: বারুইপুরের এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে মিনাতুল্লাহ শাড়ির প্যাকেট নিয়ে পোস্ট অফিসে পার্সেল করতে আসে। কিন্তু প্যাকেটের অস্বাভাবিক আকার ও ওজন দেখে সন্দেহ হয় কর্মীদের। নিয়মমাফিক প্যাকেট খুলে দেখাতে বললেই অভিযুক্ত ঘাবড়ে যায় এবং দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই কর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশে খবর দেন।
উদ্ধার হওয়া পালক ও গন্তব্য: পুলিশ এসে প্যাকেটগুলো খুলতেই চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা। শাড়ির ভাঁজ থেকে মোট ৪১টি আলাদা প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার সবকটি মাছরাঙার পালকে ঠাসা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ পালক চিনে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে মাছরাঙার পালক অলংকার তৈরির জন্য আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হয়। ধৃত ব্যক্তি দাবি করেছে যে সে বিহার থেকে এই পালকগুলি সংগ্রহ করেছে। তবে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে সুরক্ষিত পাখির দেহাংশ পাচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতকে জেরা করছে বারুইপুর থানার পুলিশ।