সকাল হতেই ইডির বজ্রাঘাত! আসানসোল থেকে দিল্লি— বালি ও কয়লা পাচার কাণ্ডে তোলপাড় দেশ

ফের বালি ও কয়লা পাচারের অন্ধকার জগতের তদন্তে রণংদেহি মেজাজে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল এবং দিল্লির একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়ি ও দপ্তরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই অভিযানে তদন্তকারীদের সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা।

ওসির বাড়িতে ইডি হানা: এই অভিযানের সবথেকে চাঞ্চল্যকর মোড় হলো বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইন চার্জ (OC) মনোরঞ্জন মণ্ডলের সিটি সেন্টারের বাড়িতে হানা। অদ্ভুত বিষয় হলো, মনোরঞ্জনবাবু এখনও ওসির দায়িত্বভার গ্রহণই করেননি। এর আগে তিনি বারাবনি থানার ওসি ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ক্লোজ অবস্থায় ছিলেন। নতুন করে ওসির দায়িত্ব পেতেই তাঁর দরজায় কড়া নাড়ল ইডি। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে খবর।

ব্যবসায়ীদের ডেরায় তল্লাশি: ইডি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ ১৬ জনের একটি বিশেষ দল জামুড়িয়ায় পৌঁছায়। সেখানে ব্যবসায়ী রমেশ বনসল এবং তাঁর দুই ছেলে সুমিত ও অমিত বনসলের বাড়ি ও হার্ডওয়্যার দোকানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গাপুরের বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্ত, পানাগড়ের শেখ হাসান, মির্জা বেগ এবং পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মাইজুলের বাড়িতেও চলছে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সম্পত্তির দলিল বাজেয়াপ্ত করেছেন।

পুরনো ও নতুন মামলার যোগসূত্র: ২০২০ সালে ইসিএলের খনি থেকে কয়লা চুরির মামলাটি বহু পুরনো হলেও, ইডি সূত্রে খবর, সম্প্রতি বালি ও কয়লা পাচারের একটি নতুন আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের হদিস মিলেছে। গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির পর এবার এই অভিযানে বালি-কয়লা পাচারের আর্থিক লেনদেনের মূল শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে ইডি। এই অভিযানে পাচারের মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে, সেটাই এখন ইডির প্রধান লক্ষ্য।