গোলপার্কে রণক্ষেত্র! গভীর রাতে পুলিশের মেগা অপারেশন, গ্রেফতার আরও ৪ দুষ্কৃতী, অধরা মূল পান্ডা সোনা পাপ্পু

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা গোলপার্ক ও কাঁকুলিয়া রোডে রবিবার রাতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। সোমবার গভীর রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকা ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে এই ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪। তবে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ এখনও পুলিশের জালে ধরা দেয়নি।
অপারেশন মাঝরাত: কারা এল জালে? কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে রয়েছে কসবার বাবলু শ’ ওরফে চিনি (৩২), সুইন হো লেনের ইন্দ্রজিৎ মাঝি ওরফে ছোটবাবু (৩০), আনন্দপুর ও নোনাডাঙার কুখ্যাত দুষ্কৃতী জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু (২৮) এবং লেক থানা এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস মণ্ডল ওরফে ভুটু (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা প্রত্যেকেই রবিবার রাতের বোমাবাজি ও শ্যুটআউটের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? রবিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কাঁকুলিয়া রোড এবং পঞ্চাননতলা এলাকায় একটি ক্লাবের পিকনিক চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যে মুখে রুমাল বেঁধে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী এলাকায় চড়াও হয়। চলে এলোপাথাড়ি গুলি, বোমাবাজি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশের আসতে দেরি হওয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিসিপি ভোলানাথ পান্ডেকে সশরীরে ঘটনাস্থলে নামতে হয়।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ: পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে। ধৃতদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর ডেরায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। শহরের বুকে এমন তান্ডবের পেছনে আর কোনো বড় মাথা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।