যোগীরাজ্যে হুলস্থুল! এক ঝটকায় ৬৮ হাজার সরকারি কর্মীর বেতন বন্ধ, কারণ জানলে চমকে যাবেন!

উত্তরপ্রদেশের সরকারি মহলে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাজ্যের ৬৮ হাজার ২৩৬ জন সরকারি কর্মীর বেতন এক লপ্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করার শাস্তি যে কতটা কঠোর হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? প্রশাসন সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রতিটি সরকারি কর্মীকে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান সরকারি ‘মানব সম্পদ পোর্টাল’-এ আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি স্তরে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা। এর জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কয়েক হাজার কর্মী এই নির্দেশকে পাত্তাই দেননি। ফলস্বরূপ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁদের চলতি মাসের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে।
কারা রয়েছেন এই তালিকায়? সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইন অমান্যকারীদের তালিকায় বড়কর্তা থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মী—সবাই আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:
প্রথম শ্রেণির আধিকারিক: ২,৬২৮ জন
দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মী: ৭,২০৪ জন
তৃতীয় শ্রেণির কর্মী: ৩৪,৯২৬ জন
চতুর্থ শ্রেণির কর্মী: ২২,৬২৪ জন
রাজস্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মীরাই সবথেকে বেশি সংখ্যায় সম্পত্তির হিসেব জমা দেননি বলে জানা গেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? মুখ্যসচিব এসপি গয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র বেতন বন্ধ করেই এই প্রক্রিয়া থামবে না। যদি দ্রুত সম্পত্তির হিসেব পোর্টালে আপলোড না করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। এমনকি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের চাকরি নিয়েও টানাটানি হতে পারে। যোগী সরকারের এই ‘বুলডোজার’ অ্যাকশনে আপাতত কাঁপছে গোটা প্রশাসন।