“ক্ষমতায় থাকতে কেন চুপ ছিলেন?” নারাভানেকে নজিরবিহীন আক্রমণ বিজেপি বিধায়ক রাজেশ্বর সিংয়ের!

২০২০ সালের ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ঘিরে সংসদ থেকে রাজপথ—তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। গতকাল লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নারাভানের বইয়ের অংশ উদ্ধৃত করে সরকারকে চেপে ধরার চেষ্টা করলে উত্তাল হয় সংসদ। এই আবহে প্রাক্তন আমলা তথা লখনউয়ের সরোজিনী নগরের বিজেপি বিধায়ক ডঃ রাজেশ্বর সিং প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে সরাসরি নিশানা করে একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।

“পদত্যাগ করলেন না কেন?” রাজেশ্বর সিং স্পষ্ট জানান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবসরের পর বই লিখে বা সাক্ষাৎকার দিয়ে দেশপ্রেম প্রমাণ করা যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি পরিস্থিতি সত্যিই এতটাই গুরুতর ছিল এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় ছিল, তবে জেনারেল নারাভানে কেন সেই সময় পদত্যাগ করেননি? যদি তিনি মনে করেন তাঁর কথা শোনা হচ্ছিল না, তবে পদে বহাল থেকে কেন তিনি সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ভোগ করলেন?” রাজেশ্বর সিংয়ের মতে, পূর্ণ সামরিক কমান্ড হাতে থাকাকালীন তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে কে বাধা দিয়েছিল, তা নারাভানের স্পষ্ট করা উচিত।

কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ রাহুল গান্ধীকে বিঁধে রাজেশ্বর সিং বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের আমলের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে ২৬/১১-এর মুম্বই হামলার পর তৎকালীন কংগ্রেস সরকার কেন কোনো সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেনি, তার জবাব আজও দেশ চায় বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত বিজেপি বিধায়কের মতে, অবসরের পর এ ধরনের নির্বাচনী তথ্য প্রকাশ করলে সামরিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। তিনি সাফ বলেন, “ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে যারা কঠিন সময়ে বুক চিতিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁদের নয় যারা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ড্রয়িং রুমে বসে বিবৃতি দেয়।”