চিংড়িঘাটায় মেট্রোর গেরো! মমতার সরকারের অসহযোগিতায় থমকে বিমানবন্দর রুট, বিস্ফোরক রেলমন্ত্রী

শহরের দীর্ঘতম মেট্রো রুট ‘অরেঞ্জ লাইন’ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ শোনালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন কলকাতা দেখছিল, রাজ্যের ‘অসহযোগিতায়’ তা এখন বিশ বাঁও জলে। সোমবার রেল বাজেটের বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চিংড়িঘাটা অংশে কাজের অনুমতি দিচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কেন থমকে বিমানবন্দর রুট? মেট্রোরেলের জেনারেল ম্যানেজার এসএস মিশ্রর ইঙ্গিত অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে বিমানবন্দর পর্যন্ত এই রুট চালু হওয়া অসম্ভব। চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩৬৬ মিটারের একটি কাজ বাকি রয়েছে। এই অংশটি সম্পূর্ণ হলেই নিউ গড়িয়া থেকে দমদম বিমানবন্দর পর্যন্ত ২৯.৮৭ কিমি রুটটি জুড়ে যেত। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে ওই এলাকায় ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি মিলছে না। রেলের দাবি, তারা বিকল্প বাইপাস রাস্তা তৈরি করে দিলেও রাজ্য সরকার তারিখ দিচ্ছে না।
বাজেটে বাংলার মেট্রোয় বরাদ্দ: অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেও বাংলার মেট্রো প্রকল্পের জন্য দু’হাত ভরে বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। এই অর্থবর্ষে অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি, পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি এবং গ্রিন লাইনের জন্য ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “১৯৭২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মেট্রো নেটওয়ার্ক ছিল মাত্র ২৭ কিমি, কিন্তু গত ১১ বছরে তার দ্বিগুণ কাজ হয়েছে।”
বুলেট ট্রেন ও ফ্রেট করিডোর: মেট্রোর জট থাকলেও বাংলার জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। শিলিগুড়ি থেকে পাটনা হয়ে বারাণসী পর্যন্ত চলবে দেশের প্রথম দফার বুলেট ট্রেন, যা ভবিষ্যতে গুয়াহাটি পর্যন্ত যাবে। এছাড়াও ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে নতুন ফ্রেট করিডোর, যা পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও মহারাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক পথে যুক্ত করবে।