দিল্লি থেকে বারাণসী মাত্র ৩.৫ ঘণ্টায়! বুলেট ট্রেনের কাউন্টডাউন শুরু, বদলে যাবে উত্তরপ্রদেশের ভাগ্য

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে। দিল্লি থেকে বারাণসী—এই দীর্ঘ পথ এখন অতিক্রান্ত হবে মাত্র ৩.৫ ঘণ্টায়। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই উচ্চাভিলাষী বুলেট ট্রেন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন। ডিপিআর (DPR) তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সাথে সাথে শুরু হয়ে গেছে প্রতীক্ষার প্রহর।

বন্দে ভারতকেও পিছনে ফেলবে এই গতি বর্তমানে দিল্লি থেকে বারাণসী যেতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগতির ট্রেনেও প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বুলেট ট্রেন চালু হলে সেই সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার এখন উচ্চ-গতির সংযোগ বা হাই-স্পিড কানেক্টিভিটি। এই প্রকল্প কেবল সময় বাঁচাবে না, বরং যাতায়াতের সংজ্ঞাই বদলে দেবে।

উত্তরপ্রদেশের প্রধান তীর্থস্থানগুলি হবে একে অপরের প্রতিবেশী এই বুলেট ট্রেন করিডোরটি উত্তরপ্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত করবে। করিডোরটি মথুরা, আগ্রা, লখনউ, অযোধ্যা এবং প্রয়াগরাজের ওপর দিয়ে যাবে। রাম মন্দির দর্শনের পর অযোধ্যা থেকে প্রয়াগরাজ বা কাশী পৌঁছানো হবে এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এটি পর্যটন শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিপ্লব ও প্রয়াগরাজের ভোলবদল রেল মন্ত্রণালয়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়াগরাজ একটি আধুনিক পরিবহন কেন্দ্রে পরিণত হবে। কুম্ভমেলার সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। দিল্লি থেকে একদিনের মধ্যেই এই শহরগুলিতে যাতায়াত সম্ভব হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং বিভিন্ন পেশাদার সংস্থা এখন বারাণসী বা প্রয়াগরাজে তাদের অফিস খুলতে আগ্রহী হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির জিডিপি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।

৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি-বারাণসীর পাশাপাশি বারাণসী-শিলিগুড়ি করিডোরকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে এই সমীক্ষায়। সব মিলিয়ে, বুলেট ট্রেনের হাত ধরে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বিশ্বমানের হওয়ার পথে।