১২ নাকি ১৩ ফেব্রুয়ারি? কুম্ভ সংক্রান্তির সঠিক তারিখ নিয়ে আর নয় বিভ্রান্তি! জেনে নিন স্নান-দানের মাহেন্দ্রক্ষণ

সনাতন ধর্মে সংক্রান্তির গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য যখন এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন করেন, তখন তাকে সংক্রান্তি বলা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সূর্যদেব মকর রাশি ত্যাগ করে কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করতে চলেছেন, যা ‘কুম্ভ সংক্রান্তি’ নামে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এবারও এই বিশেষ দিনের তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা ধন্দ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে কুম্ভ সংক্রান্তি ঠিক কবে এবং কোন সময়ে দান-ধ্যান করলে সর্বোচ্চ পুণ্য লাভ হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কুম্ভ সংক্রান্তি ২০২৬: তারিখ ও শুভক্ষণ দৃক পঞ্চাঙ্গ এবং শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার কুম্ভ সংক্রান্তি পালিত হবে। ওই দিন ভোর ৪:১৪ মিনিটে সূর্যদেব মকর রাশি থেকে বিদায় নিয়ে কুম্ভ রাশিতে পদার্পণ করবেন। শাস্ত্র মতে, সংক্রান্তির এই সন্ধিক্ষণ বা পুণ্যকালে স্নান এবং দান অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হয়।

পূজা ও উপাসনা পদ্ধতি কুম্ভ সংক্রান্তির দিন ভোরে ব্রহ্মমুহূর্তে শয্যাত্যাগ করা উচিত। স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করা অত্যন্ত শুভ। এরপর একটি তামার পাত্রে জল নিয়ে তাতে লাল ফুল, সিঁদুর এবং অক্ষত (অখণ্ড চাল) মিশিয়ে সূর্য দেবতাকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন। অর্ঘ্য দেওয়ার সময় সূর্য মন্ত্র জপ করা বা আদিত্য হৃদয় স্তোত্র পাঠ করা বিশেষ ফলদায়ক। বিশ্বাস করা হয়, এদিন সূর্য বন্দনা করলে রোগমুক্তি ঘটে এবং শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করা সহজ হয়।

দানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সংক্রান্তির দিন দান করাকে মহাশুভ বলে মনে করা হয়। এদিন অভাবী মানুষকে খাদ্যশস্য, গরম পোশাক অথবা তিল দান করার সংকল্প নিন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পবিত্র নদী যেমন গঙ্গা, যমুনা বা নর্মদায় এদিন স্নান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ মোচন হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। কুম্ভ সংক্রান্তি মূলত অন্তরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করার দিন।