ড্রাগন ও প্রতিবেশীদের টেক্কা দিয়ে ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে সোনা ফলানোর দিন শুরু?

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব বাজারের নজর কেড়ে নিল ভারত ও আমেরিকার ঐতিহাসিক নতুন বাণিজ্য চুক্তি। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্ক বা ট্যারিফের চাপে পিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতি যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে এক ফোনালাপের পরেই এল সেই বড় ঘোষণা—ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন ট্যারিফ ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেখা গেল ভারতের মুদ্রাবাজার ও বন্ড মার্কেটে।
টাকার দামে বড় উল্লম্ফন ট্রেড ডিলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৯০.৪২-এ পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বাস ফিরছে যে, বাণিজ্যের জট কাটলে ভারতে ফের বিদেশি পুঁজি বা এফপিআই (FPI) প্রবাহ বাড়বে। সোমবার যেখানে বাজার ছিল উদ্বেগের ছায়ায়, মঙ্গলবার সেই বাজারেই এখন রমরমা।
বন্ড ইল্ডে ধস ও সুদের হারের স্বস্তি বাজেটের পর থেকেই ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ড বা লাভের হার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা সোমবার ৬.৭৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বাণিজ্য চুক্তির খবর আসতেই তা ৫ বেসিস পয়েন্ট কমে ৫.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যারিফ কমার অর্থ হলো রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার মজবুত হওয়া, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
রুশ তেল ও শুল্কের জটমুক্তি গত বছর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করার পর আমেরিকা ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিল। ফলে সামগ্রিক ট্যারিফ ৫০% পর্যন্ত পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু নতুন চুক্তিতে আমেরিকা সেই শাস্তিমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিনিময়ে ভারত আমেরিকা থেকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বার্তা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বাজার থেকে বিদেশি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছিল যার ফলে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছিল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও (RBI) বাজার সামাল দিতে অফশোর মার্কেটে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু মোদী-ট্রাম্পের এই ‘ফ্রেন্ডশিপ ডিল’ বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা দূর করেছে। বাজার এখন মনে করছে, চিনের বদলে ভারতের ওপর আমেরিকার এই ভরসা এশীয় অর্থনীতিতে ভারতকে নতুন ‘সুপারপাওয়ার’ হিসেবে তুলে ধরবে।