লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কি এবার ১৮০০ টাকার ধামাকা? ৫ ফেব্রুয়ারির বাজেটে বাংলার মা-বোনেদের জন্য বড় চমক দিচ্ছেন মমতা!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar) কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি এখন গদি দখলের অন্যতম বড় হাতিয়ার। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট (Vote on Account)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই বর্তমান সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট সুযোগ, আর তাই জল্পনা ছড়িয়েছে— এবার কি ফের একধাক্কায় বাড়ানো হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান?
১৮০০ টাকার জল্পনা কেন? গত বছর বাজেটে ৫০০ টাকার অনুদান বাড়িয়ে ১০০০ টাকা এবং তপশিলিদের জন্য ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, ২০২৬-এর মহারণের আগে মহিলা ভোটারদের উপহার দিতে এই অঙ্ক এবার ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা বা তার বেশিও করা হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে জনমোহিনী বাজেটে এমন ঘোষণা অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একনজরে বর্তমান পরিসংখ্যান:
-
উপভোক্তা: বর্তমানে প্রায় ২.২১ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
-
খরচ: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নবান্ন এই প্রকল্পে প্রায় ১৯,৩৮৫ কোটি টাকা খরচ করেছে।
-
যোগ্যতা: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারা এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও ভোটব্যাঙ্ক: কেন্দ্রীয় ইকোনমিক সার্ভে রিপোর্টে এই ধরনের ভাতা প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, তৃণমূল সরকারের দাবি— এই টাকা সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। রাজ্যের ২ কোটির বেশি মহিলার হাতে বাড়তি টাকা পৌঁছানো মানেই শাসক দলের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক মজবুত হওয়া। ৫ তারিখ দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করার সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা করেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।