‘নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির আইটি সেল!’ কমিশনারের মুখের ওপর বিস্ফোরক মমতা, দিল্লিতে চরম সংঘাত

রাজধানী দিল্লিতে এবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। সোমবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীনই মেজাজ হারিয়ে বেরিয়ে এলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কমিশনারকে ‘অহঙ্কারী’ ও ‘বিজেপির ইশারায় চলা’ আধিকারিক বলে তোপ দেগে তিনি বৈঠক বয়কট করেন।

সীমা খন্না ও ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে বিতর্ক: বৈঠক শেষে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তাঁর মূল নিশানায় ছিলেন কমিশনের আধিকারিক সীমা খন্না। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “সীমা খন্না কে? উনি তো কমিশনের কেউ নন, বিজেপির আইটি সেলের লোক! অথচ তিনি ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, আর কমিশন তা নিয়ে কোনো প্রশ্নই করল না?” মমতার দাবি, এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া আসলে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র।

অপমানিত বোধ করছেন মমতা: প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে উত্তাপ ছড়ায় যখন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে কমিশন তাঁদের কোনো কথা শোনেনি। ক্ষোভের সুরে মমতা বলেন, “আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এত অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন আগে কখনও দেখিনি। ওঁর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা ওঁদের কুর্সিকে সম্মান করি, কিন্তু কুর্সি কারোর জন্য চিরস্থায়ী নয়।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাংলাকে এভাবে বারবার অপমান করা হলে তিনি শান্ত থাকবেন না। এই বৈঠক বয়কট ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে যে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।