বাজেট ২০২৬: মধ্যবিত্তের মুখে হাসি নাকি পকেটে কোপ? ফিকি-র বড় বয়ানে তোলপাড় দেশ!

বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতার কালো মেঘ, তখন ভারতের পাল তোলা নৌকাকে সঠিক দিশা দেখালো ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা FICCI-র মতে, এই বাজেট কেবল একটি সরকারি নথি নয়, বরং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
ফিকি-র প্রেসিডেন্ট শ্রী অনন্ত গোয়েঙ্কা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বাজেট অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য। উৎপাদন, কৃষি এবং পরিষেবার মতো মূল ক্ষেত্রগুলোতে যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।” তাঁর মতে, সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা বেসরকারি বিনিয়োগকেও ত্বরান্বিত করবে।
উৎপাদনে বিপ্লব ও কর্মসংস্থান: বাজেটে বায়ো-ফার্মা, ইলেকট্রনিক্স এবং খনিজ সম্পদের মতো সাতটি কৌশলগত খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতের আমদানি-নির্ভরতা কমবে এবং তৈরি হবে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান। বিশেষ করে বস্ত্র ও চামড়া শিল্পের মতো রফতানিমুখী খাতগুলো বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। ২০০টি পুরোনো শিল্প ক্লাস্টারের পুনরুজ্জীবন আঞ্চলিক অর্থনীতির খোলনলচে বদলে দেবে বলে মনে করছে ফিকি।
MSME ও ছোট ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) অক্সিজেন দিতে ১০,০০০ কোটি টাকার ‘এসএমই গ্রোথ ফান্ড’ (SME Growth Fund) ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ তহবিলে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং টিআরইডিএস (TReDS) ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণের পথ সুগম করা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিরাট পাওনা। ফিকি মনে করে, এর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলীর অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার হবে।
সব মিলিয়ে, পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও পর্যটন—পরিষেবা খাতের প্রতিটি স্তরে এই বাজেট দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির বীজ বুনে দিয়েছে। ফিকি-র আত্মবিশ্বাসী সুর বলছে, বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন অপ্রতিরোধ্য।