মহীশূরের কারখানায় তৈরি হতো ১০ কোটির মারণ ড্রাগ! জেল থেকে ফিরেই ‘কেমিস্ট’ সেজে বসল রাজস্থানি পাচারকারী

দেশের মাদক বিরোধী অভিযানে এক বড়সড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। কর্ণাটকের মহীশূরে একটি গোপন সিন্থেটিক ড্রাগ কারখানার হদিস পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এই অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, ২৫.৬ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে রাজস্থানের জালোর জেলার বাসিন্দা চার মূল পাচারকারীকে।
যেভাবে শুরু হলো এই ‘অপারেশন’
গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, কর্ণাটকের একটি বিলাসবহুল গাড়ি করে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছে। গত ২৮শে জানুয়ারি গুজরাটের সুরাটের কাছে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় আধিকারিকদের। গাড়িটি থেকে ৩৫ কেজি মেফেড্রোন (MD) উদ্ধার করা হয়। এরপরই একে একে সুরাট ও মহীশূরে শুরু হয় ম্যারাথন অভিযান।
জেল ফেরত আসামীই ‘মাস্টারমাইন্ড’
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রের মূল হোতা মহেন্দ্র কুমার বিষ্ণোই। সে আগে আফিম পাচারের দায়ে জেলে ছিল।
-
জেলে প্রশিক্ষণ: মজার বিষয় হলো, মহেন্দ্র সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরির কায়দা শিখেছিল জেলখানাতেই!
-
ল্যাবের আড়ালে কারখানা: জামিনে মুক্তি পেয়েই সে মহীশূরের হেব্বাল শিল্প এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নেয়। বাইরে সাইনবোর্ড লাগানো ছিল ‘ক্লিনিং কেমিক্যাল’ তৈরির কারখানা, কিন্তু ভিতরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চলত মারণ ড্রাগ মেফেড্রোন তৈরির কাজ।
[Image: Seized Toyota Fortuner and drugs worth 10 crores displayed by NCB officers]
কেন জারি হলো ‘রেড ফ্ল্যাগ ইন্ডিকেটর’ (RFI)?
এই ড্রাগ ল্যাবটি ২০২৪ সাল থেকে সক্রিয় ছিল এবং ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাদক বাজারে সরবরাহ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজস্থান ও গুজরাটে একাধিক মামলা রয়েছে। মেফেড্রোনের মতো সিন্থেটিক ড্রাগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মাথায় রেখে এনসিবি এবার সব রাজ্যে রেড ফ্ল্যাগ ইন্ডিকেটর (RFI) জারি করেছে।
-
RFI-এর লক্ষ্য: রাসায়নিক কারখানার আড়ালে কোনো গোপন ল্যাব চলছে কি না, তা চিহ্নিত করতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক করা।
মহীশূরের ওই কারখানাটি বর্তমানে সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় আরও গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।