“চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না!” আনন্দপুরের জতুগৃহে দাঁড়িয়ে রাজভবনের কড়া হুঁশিয়ারি, জারি হচ্ছে বিশেষ নির্দেশিকা

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক শ্রমিকের মৃত্যুতে এবার সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শুক্রবার দুপুরে ভস্মীভূত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কার্যত নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। রাজ্যপালের স্পষ্ট বার্তা, “এটা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং মানুষের ভুল। আমি চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারি না।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় প্রশাসনের জন্য তিনি খুব দ্রুত একটি ‘অ্যাডভাইজারি’ বা নির্দেশিকা আনতে চলেছেন বলেও ঘোষণা করেছেন।
এদিন আনন্দপুরের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে রাজ্যপাল বলেন, “আইন রক্ষক বাহিনী নিজের দায়িত্ব পালন করেনি, নজরদারিতে বড়সড় খামতি ছিল। এখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো স্টেক হোল্ডারই এই দায় এড়াতে পারে না। রাজ্যপাল মনে করেন, বাংলাকে ‘সফট স্টেট’ হতে দেওয়া যাবে না যেখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না। প্রশাসনের খামতি না থাকলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে না বলে তাঁর অভিমত।
কৌতূহলজনকভাবে, আনন্দপুর যাওয়ার আগে ব্যারাকপুর গান্ধীঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠানে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল রাজ্যপালকে। সেখানেও তিনি প্রশাসনকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে মন্ত্রী সুজিত বসু পাল্টা সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর দফতর তৎপরতার সঙ্গেই কাজ করেছে। বিরোধীদের আক্রমণকে গুরুত্ব না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, ভিন রাজ্যেও এমন ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদেরও দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।” মন্ত্রীর এই ‘দুর্ঘটনা’ তত্ত্বের পাল্টা রাজ্যপালের ‘অ্যাডভাইজারি’ জারির সিদ্ধান্ত নবান্ন ও রাজভবনের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিল।