পদ্মশ্রী পেয়েই বড় চমক! বিশেষ এক রাগের মাধ্যমেই ভারত সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাবেন তরুণ ভট্টাচার্য?

শাস্ত্রীয় সংগীতের আঙিনায় বাংলার নাম আরও একবার উজ্জ্বল করলেন সন্তুরবাদক পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য। ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় তাঁর নাম আসতেই খুশির জোয়ার শিল্পীমহলে। তবে এই আনন্দের মুহূর্তেও এক গভীর একাকীত্বের সুর ধরা পড়ল শিল্পীর গলায়। মা-বাবা এবং গুরুকে হারিয়েছেন আগেই; তাই এই বড় প্রাপ্তির খবর পেয়েই মধ্য হাওড়ার স্মৃতি হাতড়ে সবার আগে যোগাযোগ করলেন তাঁর প্রিয় কাকিমার সঙ্গে। শিল্পীর কথায়, “পদ্মশ্রী পাওয়া মানেই আমি সঠিক পথে চলছি, তার প্রমাণ। তবে আমার গুরু ও পিতা-মাতা আজ থাকলে আনন্দ পূর্ণতা পেত।”
মধ্য হাওড়ার গলিতে শুরু হয়েছিল সন্তুর নিয়ে তাঁর সাধনা। আজ তিনি বিশ্বখ্যাত, কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নাড়ির টান সেই হাওড়ার সঙ্গেই। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য জানান, তিনি পুরস্কারের আশায় কোনওদিন রেওয়াজ করেননি। তাঁর মতে, সুরের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। আগামী মার্চের শেষে দিল্লিতে এই সম্মান গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তবে পণ্ডিত ভট্টাচার্যের ভক্তদের জন্য রয়েছে একটি দারুণ সুখবর। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ গঙ্গা অভিযানকে উৎসর্গ করে তিনি তৈরি করেছিলেন বিশেষ রাগ ‘নম গঙ্গা’ (গঙ্গা রাগ), যা আজও বিভিন্ন গঙ্গা উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবার পদ্মশ্রী সম্মানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে একটি নতুন রাগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। শিল্পী জানিয়েছেন, বর্তমানে সাক্ষাৎকারের ভিড়ে সময় পাচ্ছেন না ঠিকই, তবে শীঘ্রই নিভৃতে নতুন সুর ও রাগের কাজে মনোনিবেশ করবেন তিনি। সন্তুরের শত তারে পদ্মশ্রীর মহিমা ফুটিয়ে তুলতেই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।