অযোধ্যা ভদর্সা গণধর্ষণ মামলা: রাজু খানের ২০ বছরের জেল, ডিএনএ রিপোর্টে ফাঁস হলো আসল সত্য!

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় চাঞ্চল্যকর ভদর্সা গণধর্ষণ মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রাজু খানকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে তথ্যপ্রমাণের অভাবে এবং ডিএনএ রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় মুক্তি পেয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন নেতা মোইদ খান।
কী ছিল সেই ঘটনা? ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই পুরাকলন্দর থানা এলাকায় এক নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই নাবালিকা যখন মাঠে কাজ করছিল, তখন রাজু খান তাকে জোর করে মোইদ খানের বেকারিতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ৩০ জুলাই পুলিশ মোইদ খান ও রাজু খানকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের মোড়: এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এর আঁচ পড়েছিল রাজনীতির ময়দানেও। মামলার শুনানির সময় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর জোর দিয়ে দুই অভিযুক্তের ডিএনএ (DNA) টেস্ট করানো হয়।
-
রাজু খান: তার ডিএনএ রিপোর্ট পজিটিভ আসায় অপরাধ প্রমাণিত হয়।
-
মোইদ খান: তার ডিএনএ রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস করে দেয়।
যোগী সরকারের কড়া পদক্ষেপ: ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মোইদ খানের বেকারিটি সিল করার পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পত্তির ওপর বুলডোজার চালানো হয়। পকসো আইন, গণধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। মোইদ খান স্থানীয় সমাজবাদী পার্টি সাংসদ অবধেশ প্রসাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা নিয়ে সেই সময় ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
অবশেষে প্রায় দেড় বছর পর আদালতের এই রায়ে নির্যাতিতা পরিবার আংশিক বিচার পেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জরিমানার ৫০ হাজার টাকা নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।