ভারতের যুবসমাজ কি সোশ্যাল মিডিয়ার জালে বন্দি? অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে এল আসক্তির ভয়ংকর ছবি!

ভারতের তরুণ প্রজন্ম এখন দিনের সিংহভাগ সময় কাটায় মোবাইল স্ক্রিনে। ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই ডিজিটাল আসক্তিকে দেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার এখন প্রায় ‘সর্বজনীন’। কিন্তু এই অবাধ অ্যাক্সেস আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়েই বেশি দেখা দিচ্ছে।
আসক্তির বিষফল: কী বলছে রিপোর্ট? অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবহারের ফলে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে:
-
উৎপাদনশীলতা হ্রাস: সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকার ফলে পড়াশোনার সময় নষ্ট হচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমছে।
-
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি: অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ঘুমের ব্যাঘাত, একাকিত্ব, বিষণ্ণতা এবং আগ্রাসনের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
-
গেমিং ও জুয়ার নেশা: অনলাইন গেমিংয়ের নেশা ক্রমে অনলাইন জুয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের, যা বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশ্বের পদক্ষেপ বনাম ভারতের চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল অপব্যবহার রুখতে ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। চীন, ফ্রান্স এবং স্পেনের মতো দেশও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে এই আসক্তি বন্ধ করা কেন কঠিন? রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের ওপর সঠিক তথ্যের অভাব (Data Gap) একটি বড় বাধা। তরুণরা অনলাইনে ঠিক কী দেখছে বা কতক্ষণ ব্যয় করছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় কার্যকর কোনও জাতীয় কৌশল বা নিয়ম তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাইবার বুলিং ও আর্থিক প্রতারণা কেবল আসক্তিই নয়, ডিজিটাল আসক্তির হাত ধরে বাড়ছে সাইবার বুলিং এবং অনলাইন স্ক্যামের ঝুঁকি। এর ফলে মানসিক চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই সমস্যা মোকাবিলায় একটি বহুমুখী ‘ডিজিটাল সূচক’ তৈরি করা জরুরি।
ভবিষ্যতের পথ: রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আসন্ন ‘দ্বিতীয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ’ (NMHS) থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভারতের ডিজিটাল সুস্থতা (Digital Wellbeing) নিশ্চিত করতে নতুন দিশা দেখাবে। তবে আপাতত ‘ডিজিটাল হাইজিন’ বা ডিজিটাল পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।