কোনও গোপন ব্যালট নয়, বরং ভরা সভায় হাত তুলে প্রকাশ্য ভোট। আর সেই ভোটেই চণ্ডীগড় পুরনিগম নির্বাচনে বিরোধী ‘INDIA’ জোটকে ধরাশায়ী করে মেগা জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)

কোনও গোপন ব্যালট নয়, বরং ভরা সভায় হাত তুলে প্রকাশ্য ভোট। আর সেই ভোটেই চণ্ডীগড় পুরনিগম নির্বাচনে বিরোধী ‘INDIA’ জোটকে ধরাশায়ী করে মেগা জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। মেয়র, সিনিয়র ডেপুটি মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র— তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই জয়লাভ করে চণ্ডীগড়ে একাধিপত্য কায়েম করল বিজেপি।
বিরোধী অনৈক্যই বিজেপির তুরুপের তাস বৃহস্পতিবারের এই নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভাঙন ছিল স্পষ্ট। কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি (AAP) জোট বেঁধে লড়াই করার বদলে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ায় জয়ের পথ প্রশস্ত হয় বিজেপির জন্য। বিজেপি প্রার্থী সৌরভ জোশী ১৮টি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির যোগেশ ধিংরা ১১টি এবং কংগ্রেসের গুরপ্রীত সিং গাব্বি পেয়েছেন মাত্র ৭টি ভোট (যার মধ্যে সাংসদ মণীশ তিওয়ারির ভোটটিও অন্তর্ভুক্ত)।
সহজ জয় গেরুয়া শিবিরের ৩৫ সদস্যের এই পুরনিগমে বিজেপির হাতে ছিল ঠিক ১৮ জন কাউন্সিলরের সমর্থন। সৌরভ জোশীর জয়ের পাশাপাশি আরও দু’টি পদেও জয়ী হয়েছে বিজেপি:
-
সিনিয়র ডেপুটি মেয়র: জয়ী হয়েছেন বিজেপির জাসমানপ্রীত সিং।
-
ডেপুটি মেয়র: এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির সুমন শর্মা।
হাত তুলে ভোট: কেন এই পদ্ধতি? ক্রস-ভোটিং বা দলবদলের আশঙ্কা এড়াতে এবার প্রিজাইডিং অফিসার রমনীক সিং বেদীর তত্ত্বাবধানে হাত তুলে মৌখিক সম্মতির মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। সকাল ১১টা নাগাদ ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, বিজেপি তাদের নিজস্ব কাউন্সিলরদের সংখ্যাতত্ত্বের জোরেই অনায়াসে জিতে যাচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক দিনের জল্পনা এবং লটারির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার তত্ত্বের অবসান ঘটে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই নির্বাচন আসন্ন বড় লড়াইয়ের আগে বিরোধী জোটের জন্য একটি অশনি সংকেত। আপ এবং কংগ্রেস যদি নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা যে বিজেপিই পাবে, তা চণ্ডীগড়ের ফলাফল আবারও প্রমাণ করে দিল।