রাস্তায় এবার কুকুর দেখলেই ছবি তুলুন! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় বদল, আসতে চলেছে বিশেষ অ্যাপ
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা পথকুকুরের উপদ্রব এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে অবশেষে বড় সিদ্ধান্তের পথে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ করে রায় স্থগিত (Reserve) রেখেছে। তবে শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
কুকুর দেখলেই ছবি! আসছে নতুন অ্যাপ হাইওয়ে বা জাতীয় সড়কের ধারে ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে পশুদের কারণে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এই সমস্যা সমাধানে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-কে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যদি হাইওয়েতে কোনও বিপজ্জন পশু দেখতে পায়, তবে সেই অ্যাপে ছবি তুলে আপলোড করতে পারবে। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। NHAI জানিয়েছে, শীঘ্রই তারা এই অ্যাপটি চালু করবে।
নসবন্দির নামে কোটি কোটি টাকার ‘দুর্নীতি’? মামলার শুনানিতে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (AWBI)-র বক্তব্যে এক ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত মিলেছে। দেখা গেছে:
-
নসবন্দির জন্য বরাদ্দ অর্থ এমন অনেকে তুলে নিচ্ছে যারা আদতে কোনও কাজই করেনি।
-
উত্তরাখণ্ডে কুকুরের সংখ্যার চেয়েও নসবন্দির পরিসংখ্যান বেশি! যা সরাসরি দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলছে।
-
কাগজে-কলমে দেশে ৮৮৩টি নসবন্দি কেন্দ্র থাকলেও, সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে মাত্র ৭৬টি।
আদালতের কড়া নজর: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে কুকুর সরানোর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা ধাপে ধাপে কার্যকর করতে হবে। তবে একইসঙ্গে পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা যাতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। নসবন্দি নিয়ে জমে থাকা আড়াইশোর বেশি আবেদন দ্রুত খতিয়ে দেখতে AWBI-কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, গত বছর ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে দেশের কোটি কোটি পথকুকুর এবং মানুষের নিরাপত্তার সমীকরণ।