বারামতীর রাজপথে কান্নার রোল! কাকা শরদ পাওয়ারের চোখের জল বাঁধ মানল না, শেষ যাত্রায় জনসমুদ্র

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং প্রিয় ‘দাদা’ অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য আজ বারামতীতে সম্পন্ন হলো। প্রিয় নেতার প্রয়াণে গোটা শহর যেন এক বিশাল শোকসভায় পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান চত্বর এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হাজার হাজার মানুষ তাঁদের প্রিয় দাদাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় জমান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এক ঝলক দেখার জন্য সমর্থকরা রাস্তার পাশের সেতু, বাড়ির ছাদ এবং গাছে পর্যন্ত উঠে পড়েন।
ভেঙে পড়লেন শরদ পাওয়ার এদিনের সবথেকে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল যখন প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারকে তাঁর ভাইপোর মরদেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। রাজনীতির লড়াই যাই থাকুক না কেন, এই ব্যক্তিগত ক্ষতি যে পাওয়ার পরিবারকে কতটা বিধ্বস্ত করেছে, তা শরদ পাওয়ারের চোখের জলেই স্পষ্ট ছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক জগতের মহীরুহদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দিল্লিতে সব কাজ ফেলে রেখে সরাসরি বারামতীতে পৌঁছান অজিত পাওয়ারকে শ্রদ্ধা জানাতে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্তিম বিদায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মরদেহ তেরঙ্গায় মুড়িয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়। বিদ্যা প্রতিষ্ঠান চত্বরে যখন তাঁর মরদেহ পৌঁছায়, তখন কয়েক হাজার মানুষের সমবেত স্লোগান “অজিত দাদা অমর রহে” আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলে। এই শোকাতুর পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন, একনাথ শিন্ডে সহ আরও অনেক হেভিওয়েট নেতা। মহারাষ্ট্রের মানুষ কেবল একজন প্রশাসককে হারাল না, বারামতী হারাল তাঁর অভিভাবককে।