ভারতে মানসিক মহামারীর কবলে তরুণ প্রজন্ম! ৬০% রোগীর বয়স কেন ৩৫-এর নিচে?

এক সময় মনে করা হতো মানসিক অবসাদ বা উদ্বেগ কেবল বয়স্কদেরই সমস্যা। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং এর মূল শিকার দেশের তরুণ সমাজ। ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মানসিক রোগীর প্রায় ৬০ শতাংশের বয়সই ৩৫ বছরের কম। অর্থাৎ, ভারতের প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত যুবসমাজ আজ এক অদৃশ্য অসুখের সঙ্গে লড়াই করছে।

অল্প বয়সেই কেন দানা বাঁধছে অসুখ? সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যে সমস্ত মানসিক সমস্যার লক্ষণ ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের পরে দেখা যেত, এখন তা গড়ে ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সেই শুরু হচ্ছে। ২০২১ সালে ‘মলিকুলার সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানসিক অসুস্থতার বীজ বপন হয়ে যাচ্ছে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই। উদ্বেগ (Anxiety), বিষণ্ণতা (Depression), এবং আচরণগত ব্যাধি এখনকার তরুণদের নিত্যসঙ্গী।

বিশেষজ্ঞদের চিহ্নিত ৫টি প্রধান কারণ: ১. অতিরিক্ত শিক্ষাগত চাপ: ইঁদুর দৌড়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে পড়াশোনার বোঝা মানসিক স্থৈর্য কেড়ে নিচ্ছে। ২. চাকরির অনিশ্চয়তা: ক্যারিয়ার গড়ার শুরুতেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং তীব্র কম্পিটিশন তরুণদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে। ৩. ডিজিটাল ওভারডোজ: দিনরাত স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অলীক জগতের সঙ্গে বাস্তব জীবনের তুলনা মানসিক অশান্তির বড় কারণ। ৪. একাকীত্ব: মানুষের ভিড়েও যান্ত্রিক জীবনধারা তরুণদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। ৫. মাদকাসক্তি: সাময়িক স্বস্তি পেতে ড্রাগস বা অ্যালকোহলের নেশায় জড়িয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তবে আশার কথা এই যে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। লুকোছাপা না করে অনেকেই এখন চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসছেন। সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, অন্যথায় এটি আজীবন অসুস্থতায় রূপ নিতে পারে।