রণবীর সিং-এর বিপদ! ‘কান্তারা’ নিয়ে রসিকতা করতেই শ্রীঘরে যাওয়ার জোগাড়?

বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতা রণবীর সিং যখন বক্স অফিসের সাফল্য উপভোগ করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে নেমে এল আইনি দুর্যোগের কালো মেঘ। গত বছরের একটি পুরনো বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার বেঙ্গালুরুতে রণবীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। অভিযোগ, ঋষভ শেঠ্ঠির ব্লকবাস্টার ছবি ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’-এর একটি পবিত্র দৈব চরিত্রকে ‘ভূত’ বলে সম্বোধন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে গভীর আঘাত হেনেছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনার সূত্রপাত গত বছর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (IFFI) সমাপ্তি অনুষ্ঠানে। সেখানে অভিনেতা ঋষভ শেঠ্ঠির উপস্থিতিতে তাঁর অভিনয় ও ‘কান্তারা’ ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেন রণবীর। তবে গোল বাঁধে তাঁর শব্দচয়নে। রণবীর মঞ্চে বলেন, “ঋষভ, তোমার পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে যখন মহিলা ভূতটি তোমার শরীরে প্রবেশ করে, সেই মুহূর্তটা জাস্ট আউটস্ট্যান্ডিং!”

রণবীরের এই মন্তব্য মুহূর্তেই দাবানলের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তুলুনাডু অঞ্চলের ভক্তরা এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁদের দাবি, ছবিতে যা দেখানো হয়েছে তা কোনো ‘ভূত’ নয়, বরং তা অত্যন্ত পবিত্র এবং পূজনীয় ‘চামুণ্ডী দৈবা’। দৈব ঐতিহ্যকে ‘ভূত’ বা ‘পৈশাচিক’ তকমা দেওয়া সেই সংস্কৃতির চরম অবমাননা হিসেবেই দেখছেন অভিযোগকারীরা।

আইনি ফাঁস এবং মামলা: গত ২৮ জানুয়ারি বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রণবীর সিং সুচিন্তিতভাবে এবং বিদ্বেষপূর্ণভাবে এই কাজটি করেছেন যাতে হিন্দু ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৯৬, ২৯৯ এবং ৩০২ ধারায় এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এর ফলে সমাজে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রণবীরের সাফাই ও ক্ষমা প্রার্থনা: বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই এর আগে রণবীর সিং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছিলেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ঋষভের অবিশ্বাস্য অভিনয়ের প্রশংসা করা। আমি আমাদের দেশের প্রতিটি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। যদি অজান্তে কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” তবে রণবীরের এই মার্জনা প্রার্থনায় যে চিঁড়ে ভেজেনি, তা বর্তমান এই পুলিশি মামলা থেকেই স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ ছবিটি মূলত চতুর্থ শতাব্দীর কদম্ব রাজবংশের পটভূমিতে তৈরি এবং তুলুনাডুর দৈব পূজার ইতিহাসের ওপর আধারিত। যেখানে ঋষভ শেঠ্টি বর্মের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই পবিত্র ঐতিহ্যকে নিয়ে কোনো রকম ব্যঙ্গ বিদ্রূপ বরদাস্ত করতে নারাজ সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, এই আইনি লড়াইয়ে রণবীরের ভবিষ্যৎ কী হয়।