অভিশপ্ত আকাশ! সঞ্জয় গান্ধী থেকে অজিত পওয়ার—বিমান দুর্ঘটনায় বারংবার রক্তাক্ত ভারতীয় রাজনীতি

মহারাষ্ট্রের বারামতিতে আজকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার উসকে দিল ভারতীয় রাজনীতির সেই ভয়াবহ ইতিহাসকে, যেখানে আকাশপথের বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে দেশের একের পর এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। আজ সকালে এনসিপি প্রধান তথা মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া। কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতে কপ্টার বা বিমান দুর্ঘটনায় কোনো হেভিওয়েট নেতার মৃত্যু এই প্রথম নয়।
এক নজরে সেই অভিশপ্ত তালিকা:
বিজয় রূপানি (২০২৫): গত বছরই গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। আমেদাবাদ থেকে উড়ানের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে ২৪১ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
দর্জি খান্ডু (২০১১): অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দর্জি খান্ডু তাওয়াং থেকে ফেরার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। বেশ কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি (২০০৯): অন্ধ্রপ্রদেশের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএসআর-এর হেলিকপ্টার নাল্লামালা জঙ্গলে ভেঙে পড়ে। খারাপ আবহাওয়াই ছিল সেই বিপর্যয়ের কারণ।
ওপি জিন্দাল ও সুরেন্দর সিং (২০০৫): উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান হরিয়ানার দুই দাপুটে মন্ত্রী।
সাউন্ডারিয়া (২০০৪): জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী সাউন্ডারিয়া নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে বেঙ্গালুরুর কাছে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
জিএমসি বালযোগী (২০০২): লোকসভার তৎকালীন স্পিকার বালযোগীর হেলিকপ্টার অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় দুর্ঘটনায় পড়ে।
মাধবরাও সিন্ধিয়া (২০০১): কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মৃত্যু হয় উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বিমান ভেঙে।
সঞ্জয় গান্ধী (১৯৮০): ইন্দিরা-পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর অকাল মৃত্যু হয়েছিল দিল্লিতে সফরের সময় বিমান দুর্ঘটনায়।
আজ অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে। কেন বারবার রাজনীতিকদের নিরাপত্তার বলয় এভাবে আকাশে ভেঙে পড়ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিচার-বিশ্লেষণ।