ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডে বড় রায়! বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের জেল ও বিপুল জরিমানা!

ক্রিকেট বিশ্বে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া এবার আরও ঘনীভূত। লঙ্কান টি-টোয়েন্টি লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ডাম্বুলা থান্ডার্সের মালিক তামিম রহমানকে কঠোর শাস্তি শোনাল কলম্বো হাইকোর্ট। বুধবার আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ নাগরিককে। তামিমকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি তাকে ২৪ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, তামিম রহমান আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন এক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের সময় ডাম্বুলার এক ক্রিকেটার সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, দলের মালিক তাকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।

উল্লেখ্য, লঙ্কান প্রশাসন তাকে দুবাইগামী বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে কলম্বো বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছিল। কয়েক সপ্তাহ জেল হেফাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও শেষরক্ষা হলো না। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় ক্রীড়া দুর্নীতি দমনে যে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেই আইনেই এবার ফেঁসে গেলেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক।

এই মামলায় শুধু তামিম নন, ডাম্বুলা থান্ডার্সের টিম ম্যানেজার মুজিবউর রহমানের নামও জড়িয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিক মুজিবউরের বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ চালু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বড় মাপের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই রায়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ও বিচারবিভাগ বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিল—ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করা হবে না।