বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অজিত পওয়ার! সুপ্রিম কোর্টে কি চরম বিপাকে কেন্দ্র?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে বারামতিতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। বুধবার ভোরে বারামতির পাহাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। অজিত পওয়ার-সহ বিমানে থাকা মোট ৫ জনই এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কাকতালীয়ভাবে, যেদিন এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, ঠিক সেই দিনই সুপ্রিম কোর্টে গত জুন মাসের ‘এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১’ বিমান দুর্ঘটনা মামলার শুনানি ছিল। যেখানে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিমান তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (AAIB) স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বারামতির দুর্ঘটনা ও ঘনীভূত রহস্য: প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বুধবার ভোরে বারামতি এলাকাটি ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমানতা ছিল অত্যন্ত কম। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও কেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) বিমানটিকে ওড়ার অনুমতি দিল? ওড়ার আগে কি বিমানের যান্ত্রিক পরীক্ষা ঠিকমতো করা হয়েছিল? প্রশাসনিক মহলে এখন এই প্রশ্নগুলোই ঘোরাফেরা করছে।

সুপ্রিম কোর্টে সরকারের ওপর চাপ: অন্যদিকে, আজ সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, গত জুন মাসে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া ১৭-এর বিমান দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের (২২৯ যাত্রী ও ১২ ক্রু) মৃত্যু হয়েছিল। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশের পরেও কেন্দ্রীয় সরকার বা এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) এখনও কোনো হলফনামা জমা দেয়নি।

পাইলটদের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: প্রশান্ত ভূষণ আদালতে জানান, অনেক পাইলটই দাবি করছেন যে বর্তমান বিমানগুলো যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। জুন মাসের দুর্ঘটনায় প্রাথমিক রিপোর্টে তদন্তকারী সংস্থা পাইলটদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছিল, যা নিয়ে আগেই উষ্মা প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, সব দায় পাইলটদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

আদালত এই বিষয়ে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে খুব দ্রুত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হবে। অজিত পওয়ারের মৃত্যুর দিনেই এই আইনি লড়াই বিমান পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।