বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ঘরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ শ্রমিকদের, ফরিদাবাদ সিভিল হাসপাতালে শিহরিত আবিষ্কার!

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাই দস্তুর। কিন্তু সেই হাসপাতাল চত্বরেই যদি দীর্ঘ দুই বছর ধরে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকে এবং কেউ টেরও না পায়, তবে তা জনমানসে আতঙ্ক ও বিস্ময় দুই-ই সৃষ্টি করে। হরিয়ানার ফরিদাবাদের বাদশা খান (বিকে) সিভিল হাসপাতালে ঠিক এই হাড়হিম করা ঘটনাই ঘটেছে। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত টিউবওয়েল ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে এক রহস্যময় কঙ্কাল।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা: বর্তমানে বিকে হাসপাতালে সংস্কারের কাজ চলছে। মঙ্গলবার নির্মাণ শ্রমিকরা যখন মাটির নিচে কেবল পাতার কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে শ্রমিকরা কাছের একটি জরাজীর্ণ ও পুরনো টিউবওয়েল ঘরে ঢুকে পড়েন। ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তাঁদের রক্ত হিম হয়ে যায়। মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন একটি কঙ্কাল। আতঙ্কিত শ্রমিকরা চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে।

দুই বছর কেন অলক্ষ্যে রইল এই মৃত্যু? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি অন্তত দুই বছরের পুরনো। ঘরটিতে ধুলোর আস্তরণ এবং পরিবেশ দেখে স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিন সেটি খোলা হয়নি। টিউবওয়েলটি অকেজো হয়ে যাওয়ার পর থেকে সেখানে কর্মীদের যাতায়াত বন্ধ ছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, দেহ পচে যাওয়ার সময় কেন কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায়নি? তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘরটি হাসপাতালের মর্গের ঠিক পাশেই অবস্থিত। মর্গের নিজস্ব ওষুধের কটু গন্ধ এবং পরিবেশগত কারণে মৃতদেহের পচনজনিত গন্ধ আলাদা করে কেউ বুঝতে পারেননি।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে দুই তত্ত্ব: এনআইটি-৩ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনোজ কুমার এবং এসজিএম নগর থানার এসএইচও সুনীল কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ মূলত দুটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। প্রথমত, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে কি না। কাউকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য এই জনশূন্য ঘরে ফেলে যাওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার ঝোঁকে ওই ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন এবং সেখানেই অতিরিক্ত ড্রাগ সেবন বা অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সেই দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শনাক্তকরণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: কঙ্কালটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে সেটি পুরুষ না মহিলার, তা খালি চোখে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পুলিশ কঙ্কালটি উদ্ধার করে ইএসআই মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। আজ, বুধবার ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হবে। একইসঙ্গে ফরিদাবাদ ও আশেপাশের জেলাগুলি থেকে গত ২-৩ বছরে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। নিখোঁজ ডায়েরির তথ্যের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে দেখে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এই রহস্যময় কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় পুরো হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।